Thursday, December 5, 2019

এবার বার্বার

কেশায়নী ছিল আমার মামাবাড়ির সবচেয়ে কাছের চুল কাটার  দোকান| অবশ্য চুল কাটার দোকান মাত্রকেই   আমরা জানতাম  সেলুন বলে| সেই জ্ঞানটা কতটা প্রগাড় ছিল বলে রাখা ভালো| কলেজ ছাড়ার কিছুদিন পর কোন উপলক্ষে আমাদের  দু-তিনজন বাঙালির  প্যারিস যাবার সৌভাগ্য হয়েছিল| সেখানে চায়ের দোকান  খুঁজছিলাম একদিন সকালে| একজন একটা দোকান দেখিয়ে দিল - দোকানের  গায়ে লেখা ছিল salon de tea - অর্থাৎ চা এর ঝুপড়ি| তাই দেখে আমার এক বন্ধু বলেছিলো "দ্যাখো কান্ড, এখানে চুলও কাটে আবার  চা ও বিক্রি করে!" অবশ্য আমি নিজেও এ ব্যাপারে কম যাই না| একবার বোলপুর বেড়াতে গিয়ে বাবার কাছে শুনলাম রবীন্দ্রনাথকে নাকি শেষ যেবার কলকাতায় আনা হয়, রেলের একটা স্পেশাল সেলুন কার-এ করে  আনা হয়েছিল| আমি কল্পনা করেছিলাম, রবীন্দ্রনাথ চুল কাটতে কাটতে বোলপুর থেকে কলকাতায় এসেছিলেন একটা ভ্রাম্যমান সেলুনে চড়ে| অত চুল দাড়ি, সময় তো লাগবেই - তাই জার্নির সময়টা কাজে লাগানো হয়েছিল| সাধে কি আর বিশ্বকবি!

যাই হোক, হচ্ছিল কেশায়নীর কথা| জি টি রোডের ওপরেই সেই দোকান| পাশেই একটা ডেকরেটরের  দোকান ছাড়া আসে পাশে আর কিছু ছিল না| বেশ একটা শান্ত পরিবেশ| রাস্তার ওদিকটায় তেমন রোদ্দুর ও যেত না - কেমন যেন ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব| একবার মাত্র ওই দোকানে ঢুকেছিলেম| সেবার মা ছোটমামাকে বলল ছেলেটার চুলটা  একটু কাটিয়ে নিয়ে আয় তো! ছোটমামার অত দোকানের বাছবিচার ছিল না| যেটা কাছে এবং ফাঁকা, সেখানেই ঢুকেছিল| কিন্তু ওই চুপচাপ ম্যাদামারা চুল কাটার দোকান আমার মোটেই  পছন্দ হয় নি| তবে নামটা জমজমাট ছিল| কেশায়ানী শব্দটা ডিকশনারীতে পাই নি| কোত্থেকে যে এই নামটা যোগাড় করেছিল কে জানে! আমি মনে মনে নিজেই একটা অর্থ করে নিয়েছিলাম - "বেশ বাহারী গোছের চুল"|

চুল কাটার  দোকানের মতো  দোকান ছিল রামের সেলুন| ওরকম জমজমাট সেলুন আর কোত্থাও দেখি নি| আমাদের কানপুরের সেলুন তার কাছে লাগে না| বসুদার সেলুনও নেহাত শিশু| এমনকি দিল্লী, ম্যাড্রাস মায় আমেরিকার সেলুনও  রামের সেলুনের ধরে কাছে ঘেঁষতে পারবে না| রামের সেলুনে ঢোকার আগে সেই সেলুনগুলোর সঙ্গে একটু পরিচয় করিয়ে দিই|

কানপুরের সেলুনে একটা ভালো জিনিস আর একটা খারাপ জিনিস ছিল| ব্যাস - বাকি সব মামুলী | ভালো জিনিসটা হলো একটা বোতলের মুখে একটা স্প্রে করার যন্ত্র| মাথায় বেশ পিচকিরি দিয়ে জল ঢালতো লোকটা - খুব মজা পেতাম ছোটবেলায়| একদম হোলি হ্যায়!| আর খারাপ জিনিসটা হলো ঘাড়ের চুল কাটার একটা ক্লিপ| যখন চালাতো, মনে হত ঘাড়ের চামড়া খুবলে খুবলে তুলে নিচ্ছে| ভয়ে সিঁটকে থাকতাম যখন নাপিত ভায়া ওটা হাতে তুলে নিত| একদম থার্ড ডিগ্রী|

ম্যাড্রাসের  সেলুনের দেয়ালে ছিল নানান ফিল্ম হিরোদের ছবি| তার মধ্যে সুপারস্টার রজনীকান্তের জামাই ধনুষের  অনেকগুলো ছবি ছিল|  আমি ভাঙ্গা ভাঙ্গা তামিলে বললাম "রজনীকান্ত মাপিল্লাই  আ? সুপ্পার এক্টর আ|" নাপিত ছেলেটা  আমার জ্ঞান দেখে সেদিন কি খুশীই না হয়েছিল! ষাট টাকার জায়গায় পঞ্চাশ টাকা নিয়েছিল| বলেছিলো "চেঞ্জ ইল্লা"| আমি জানি ওসব বাহানা - ওর কাছে চেঞ্জ ছিলো|| আসলে ও একজন তামিল সিনেমার ভক্ত হিসাবে আর একজন তামিল সিনেমার ভক্তকে ১০ টাকা ডিসকাউন্ট দিয়েছিল|

কর্মসূত্রে নিউ জার্সিতে কিছুদিন থাকতে হয়েছিল| ওখানে চুল কাটার দাম দেখে ঠিক করেছিলাম, যেদিন কাটব, একদম মিলিটারী ছাঁট দিয়ে নেব, যাতে আর ছমাস ওমুখো না হতে হয়| খুঁজে পেতে একটা সস্তার সেলুনও  বার করলাম| নাপিতের নাম জন| তার সারা দেয়ালে - না ফিল্ম হিরো নয় - ইউরোপের কিছু সুন্দর সুন্দর শহরের ছবি| আর সেই ছবিগুলোর সবকটাতেই জন উপস্থিত|  "ইস দ্যাট ক্রেমলিন?"   জিজ্ঞেস করতে বললো "ইয়্যা, ওয়েন্ঠ দেয়ার ল্যাস্ট ইয়্যার"| বুঝলাম যে জন হেলাফেলার পাত্র নয়| চুল তো কাটা  হলো| এদিকে কে যেন বলেছিলো, ওদেশে চুল কাটার পয়সা দেবার পর একটু টিপসও দিতে হয়| কিন্তু যে লোকটা রোম, প্যারিস, এথেন্স, মস্কো চষে এসেছে, তাকে আমি আর কি টিপস দেব? টিপস দিতে এত লজ্জা আর কখনো পাই নি|

আমাদের পাড়ায়  ছিল একটাই সেলুন| বসুদার সেলুন| ভাদ্রলেকের নাম বসু ছিল, না পদবী বসু সেটা বেশির ভাগ লোকই  জানত না| সকাল আটটার মধ্যে মালকোঁচা মারা ধুতি আর একটা ফতুয়া পরে সাইকেল চালিয়ে উনি আসতেন| দোকান খুলেই স্টোভ জ্বেলে একটু গরম জল চড়িয়ে দিতেন দাড়ি কামানোর প্রস্তুতি হিসেবে| তারপর এসে যেত পড়ার যত সদ্য রিটায়ার করা আধ বুড়োর দল| বেশির ভাগের পরনে লুঙ্গি আর স্যান্ডো গেঞ্জি| খুব আড্ডা চলত| বসুদা একটা বাংলা কাগজ রাখতেন| সেই কাগজটা ওই লোকগুলোর কেউ বাড়িতে নিত না - বসুদার দোকানেই পড়ে নিত| কেউ কেউ দাড়িও কমিয়ে নিত আড্ডার ফাঁকে| মাঝে মধ্যে কোনো কুঁচো কাঁচা এসে চুল কেটে যেত| আমিও কেটেছি অনেকবার| রামের সেলুন বন্ধ হয়ে যাবার পর আর ওই বেতাইতলা  অবধি গিয়ে চুল কাটাতাম না| বসুদা কিছুতেই আমার কানের পাশের চুলগুলো কাটতে চাইতেন না| বলতেন "রোগা শরীর তো, কানের পাশটা একটু ভারী রেখে দিলে ভালো দেখাবে|" একদম আধুনিক জামানার হেয়ার স্টাইলিস্টদের মতো রিসার্চ ওরিয়েন্টেড চিন্তা ভাবনা! আমার আজকের ধুমসো চেহারা দেখলে হয়তো  উনি আমাকে ন্যাড়াই  করে দিতেন - "মোটা শরীর তো, যত কম চুল থাকে ততই ভালো|"

দিল্লীতে আজকাল অবশ্য প্রচুর হেয়ার স্টাইলিস্ট| তাদের এয়ার কন্ডিশন্ড বাহারী দোকান| কিসমস্ত নাম - Hair port, Julius Scissor, Hair you go, Hairitage.. এই সমস্ত চুল বিশেষজ্ঞরা  সব নাকি কোনো এক হাবিব মিঞার চ্যালা | আমার রাজু ভাইয়ার  দোকানে ৫০ টাকা তো হেয়ারপোর্টে ১০০ টাকা| পলটু সেবার সেই দোকানে গিয়ে দরাদরী শুরু করেছিল| শেষমেষ বলেছিলো, আমার কাছে ৭০ টাকাই আছে - কাটবে কি না বলো? লোকটা রাজি হয়ে গেছিলো| বাড়ি ফিরতে আমি বললাম তুই ওই দোকানে ২০ টাকা বেশি দিয়ে চুল কাটালি? পলটুর  অকাট্য যুক্তি - তোমার দোকানের চেয়ে ২০ টাকা বেশি, কিন্তু ওদের দামের চেয়ে তো ৩০ টাকা কম! আমি ৩০ টাকা বাঁচালাম আজ|

পলটু  চুল কাটতে গেলেই ঐরকম কিছু একটা করে আসে| সেবার ফ্রি তে চুল কেটে এলো| ও নাকি তিন ইঞ্চি চুল রাখতে বলেছিলো আর নাপিত সেটা দু ইঞ্চি শুনেছিল| চুল কাটার পরে ঝগড়া| ওর পাশে বসা ভদ্রলোকও নাকি পলটুকেই  এই ব্যাপারে সমর্থন করেছিলেন| পলটু  ক্ষতিপূরণ দাবী করেছিল - যদিও সেটা ও পায় নি| তবে ফ্রি তে চুল কাটা  হয়ে গেছিল|

রাজু ভাইয়ার দোকানে আবার অন্য খেলা| সে আজকাল আর নিজে চুল কাটে না| অনেক লোক রেখেছে - নিজে দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে| কেউ ওদিকে গেলেই "আইয়ে সার আইয়ে" বলে ঢুকিয়ে নেয়| পাশের দুটো দোকানে যাতে কেউ না যায়, সেই ব্যবস্থা| অনেকদিন পরে  জেনেছিলাম যে ওই তিনটে দোকানই নাকি রাজু কিনে নিয়েছিল| তাহলে কার সঙ্গে এত কম্পিটিশন? রাজুকে জিজ্ঞেস করতে সে বলল, আগে তো তার একটাই দোকান ছিল| তখন ওরকম ডাকাডাকি করতেই হতো| কিন্তু এখনো করে কারণ "আদত পড় গয়া"| আমি বললাম, "সে তো যখন তুমি শুরু করেছিলে, শুনেছি ইঁটের ওপর বসিয়ে চুল কাটতে| এখনো সেলুনের ভেতরে চেয়ারের বদলে ইঁট রাখোনা ক্যানো? রাজু উত্তর দেয় নি| আরো একজনের পেছন পেছন "আইয়ে সার আইয়ে" বলতে বলতে ছুটেছিল|

রামের সেলুন দিয়ে শেষ করি| জীবনের শেষ কথাটাই তো "রামনাম সত্য হ্যায়"| রামের সেলুন ছিল বেতাইতলার ব্যস্ত মোড়ের থেকে বড়জোর ২০ মিটার দুরে| দোকানের দুটো অর্ধেক  পাল্লা  ছিলো| টেনে বা ঠেলে খোলা যেত, ছেড়ে দিলে দুবার এদিক ওদিক করে নিজেই আবার স্বস্থানে গিয়ে থেমে যেত| তখন দোকানের ভেতরের লোকেদের পা গুলো দেখা যেত শুধু| কতজন ওয়েটিং এ আছে হিসেব করতে হলে, মোট পায়ের সংখ্যাকে দুই দিয়ে ভাগ করে ভাগফল থেকে দুই বাদ দিতে হত - কারণ দুজন নাপিত ছিল সেখানে| দুটো পাল্লারই  ওপরে বাঙলায় লেখা ছিল  "রামের সেলুন"| পাল্লা  দুটোর ওপর দিয়ে সকালের রোদ ঢুকত রামের সেলুনে| জিটি রোড রামের সেলুনের সামনেই  সামান্য বাঁক নিয়েছে - ফলে সর্বক্ষণ বাস এর তীব্র হর্ন| ধুলোও  ঢুকত সেলুনে| পাশেই একটা গোপালের গেঞ্জি জাঙ্গিয়ার দোকান - সে দর চড়িয়ে রাখতো আর সবাই জানত যে ওর দোকানে খুব দরাদরী করা যায়| ফলে ভিড় হত আর লোকজন খুব চেঁচামেচি করে দরদস্তুর করতো| রাস্তার ওপারে একটা বাঁশ আর বালির গোলা| মাঝে মধ্যে সেসব  ঠেলাগাড়িতে তোলবার সময় বা ঠেলাগাড়ি থেকে নামানোর সময় খুব হই চই  হত| আশে  পাশে আরো কিসব দোকান ছিল - সব মনে নেই| সামনে উঁচু রোয়াক, সেখানে কেউ কেউ সাইকেল উঠিয়ে রাখতো| গোটা চারেক নেড়ি কুকুর সারাদিন চেঁচাতো| একদম  হাই ডেসিবেল জোন| এরই মধ্যে অত্যন্ত ধীর স্থির ভাবে রামদা একটার পর একটা লোকের চুল দাড়ি কেটে যেত সারাদিন| পরনে খাটো ধুতি আর হেমন্ত মুখার্জির  মতো একটা সাদা শার্ট| পায়ে চামড়ার চটি| বেঁটে খাটো মানুষ  - বড় জোর সাড়ে পাঁচ ফিট| মাথার মাঝখানে টাক| চিন্ময় রায়ের মত সরু গোঁফ| রামদার সাগরেদ ছিল জুন| তার নাম আসলে জুনেদ, না জানকিপ্রসাদ, না জন...কেউ জানতো না| ঘাড় ঢাকা চুল| খানিকটা চুল চোখ, নাক মুখের ওপরেও এসে পড়ত| এক আঙ্গুলে কায়দা করে সেগুলো সরাত জুন|  চকচকে মুখ, মনে হত দিনে দুবার দাড়ি কামায়| রোগা  তেঢ্যাঙ্গা চেহারা| আমাদের বাড়ির কেউ কিন্তু জুনের কাছে চুল কাটাত না| কারণ রামদা ছিল অভিজ্ঞ নাপিত, ফলে সবাই তার খদ্দের ছিল| শুনেছি জুনের খাবার জুটত না, তাই রামদা দয়াপরবেশ হয়ে ওকে কাছে রেখে কাজ শিখিয়েছিল| রামদার বৌ বাচ্ছারা সব দেশে থাকত, তাই কোনো সমস্যা ছিল না| আমার অবশ্য মনে হত জুন নেহাত খারাপ নাপিত নয়| রামদার ঘাড়ের চুলগুলো কেমন পরিপাটি - সেটা নিশ্চই জুন -ই কাটে! আর জুন এর ওই এলোমেলো চুল কাটে রামদা|

জুন ছিল ভারী ইন্টারেস্টিং মানুষ| ধর্মেন্দ্র থেকে ধাপার ফুলকপি, হোমিওপ্যাথি এবং  হেলেন, গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথের স্কোয়ার কাট  কিম্বা কাশীর বিশ্বনাথ গলির আলুর চাট  - হেন বিষয় ছিল না যার সম্বন্ধে জুনের অগাধ পান্ডিত্যের রসে আমরা চোবানি খাই নি| আমার পরিষ্কার মনে আছে, যেদিন মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হলো, তার পরের দিন আমি চুল কাটাতে গেছিলাম| জুন বিস্তারিত ভাবে বাংলাদেশের ইতিহাস বোঝাচ্ছিল - অমন আকর্ষনীয় ভাবে খুব কম লোকই ইতিহাস পড়াতে পারবে| নেহাত বেলা একটা বেজে গিয়েছিল, নইলে সেদিন আমার মোটেই বাড়ি যাবার ইচ্ছে করছিল না|  জুনের সবচেয়ে প্রিয় টপিক ছিল 'ম্যামড্যান' স্পোর্টিং এর কোনো বড় ম্যাচ দেখতে গিয়ে  'শ্শালা' বেধড়ক  মারপিটের ভেতর থেকে ও কিভাবে 'শ্শালা' অক্ষত বেরিয়ে এসেছিল সেই ঘটনা| শুধু 'শ্শালা' জামার সাইড পকেটটা ছিঁড়ে গেছিল - সেটা সে প্রমান হিসেবে দেখাত| ওর জামাটাও ছিল দেখার মত| একটা বিশাল সাদা আলখাল্লা বিশেষ| অনেকটা যেরকম জামা আজকাল পাক প্রেসিডেন্ট ইমরান খান পরে  থাকেন| সঙ্গে ম্যাচিং ঢোলা পায়জামা| খালি পা| অনেক পরে আমার মনে হয়েছিল, ফিদা হুসেনের দাড়ি গোঁফ চেঁচে দিলে অনেকটা জুনের মত দেখতে লাগতো| সর্বক্ষণ পান চিবোতো| খানিক্ষণ পরে পরেই চা আনিয়ে একটা  ছোট্ট খুরি তে করে খেত আর নিজের সব খদ্দেরদের খাওয়াত| রামদাকেও  খাওয়াত, কিন্ত রামদার খদ্দেরদের খাওয়াত না| তবে জুনকে সবাই কেমন যেন সন্দেহের চোখে দেখত| কারো কারো কাছে শুনেছি ও একটা নেশাখোর মাতাল| একদিন রামদার টাকাকড়ি নিয়ে সরে পড়বে|
তারপর একদিন চুল কাটতে কাটতেই রামদার স্ট্রোক হলো| সঙ্গে সঙ্গে  জুন......না, রামদার টাকা পয়সা নিয়ে সরে পড়ল না| রামদাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল| সেখান থেকে হাঁসপাতাল| অনেক চেষ্টা করেছিল বাঁচাতে| অবশেষে রামনাম সত্য হ্যায় হয়ে গেল| আমরা বললাম dying in harnesss (কথাটা নতুন শিখেছি তখন)| তারপর কিছুদিন সেলুন বন্ধ| মাসখানেক পরে  দেখি জুন আবার দোকান খুলেছে আর জুনের পেছনে দাঁড়িয়ে চুল কাটছে রামদা| কি আশ্চর্য! ভেতরে ঢুকে জানলাম ওটা রামদার ছেলে - একদম বাপের মত চেহারা আর পোশাক আশাক| মায় টাকটা পর্যন্ত রামদার মতন| জুন বলল "'শ্শালা' আসতেই চায় না| গ্রামে গিয়ে ধরে আনলাম| 'শ্শালা' তোর বাপের ব্যবসা তুই দেখবি না তো কি আমি দেখবো"| কিছুদিন এই ভাবেই চলল| রামদার ছেলেকে জুন চুল কাটা  শেখালো| কিন্তু তখনো  জুন জুনিয়র পার্টনারের মতই ব্যবহার করত| রামদার ছেলের কিন্তু শহরে মন টিকলো না| সে ভেগে গেল| এরপর আমি জুনের কাছেই চুল কাটাতাম| লোকের মুখে শুনেছি জুন প্রতি মাসে রামদার বাড়িতে টাকা পাঠাতো| কিন্তু জুন আর বেশিদিন বাঁচে নি| বোধহয় ওর মন ভেঙ্গে গিয়েছিল|

স্বর্গে গিয়ে জুন হয়তো  আজও গৌতম  বুদ্ধের জটার পাক খুলতে খুলতে ওনাকে বোঝাচ্ছে "ওরকম শ্শালা ঝাড়পিটের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এলাম, ম্যামড্যান তখনও এক গোলে  জিতছে| শ্শালা পকেটটা ছিঁড়ে গেল, এই দ্যাখো"| স্বর্গে সে এক নতুন দৃশ্য়| গৌতম বুদ্ধ চা খেতে খেতে শুনছেন জুনের কাহিনী|

হুম, আমি নিশ্চিত যে জুন স্বর্গেই গেছে||


রাজনীতির ধাক্কা

রাজনীতি নিয়ে    আমার জ্ঞান ছিল খুবই সামান্য।    এবং আজ যে সেটা কিছু মাত্র বেড়েছে সে দাবি আমি করি না।ছাত্র-ছাত্রীদের রাজনৈতিক চেতনা থাকা ভা...