Tuesday, February 27, 2018

ড্রাইভার সাহেব

এদিকটা বেশ ফাঁকামেলা| সেদিন অফিসের সামনে দেখি একটা দামী Audi গাড়ী দাড়িয়ে| তার ডিকির ওপর একটা চাদর বেছানো| সেই চাদরের ওপর খোলা হয়েছে একটা টিফিন কৌটো | রুটি, তরকারী, ডাল, আচার আর একটা বোতল ভর্তি লস্সি| ড্রাইভার সাহেবের লাঞ্চ হচ্ছে|

মনে হল, আমি এরকম কেন ভাবছি! এমন ও তো হতে পারে যে ওই লোকটাই এই গাড়ির মালিক!  সে যেভাবে খুশি, যেখানে খুশি লাঞ্চ করুক - কার কি আসে যায়? আসলে ছোটবেলা থেকে মন ভাবতে শিখেছে যে এরকম গাড়ীর  মালিকরা একটু দামী রেষ্টুরেন্ট ছাড়া খেতেই পারেন না|  কিন্তু উল্টো ও যে হয় তার প্রমান তো পাশের পানের দোকানটাতেই উপস্থিত| দোকানের মালিক এর নাম সন্দীপ| দেওঘরের ছেলে| এদেশে এসে নানান ব্যবসা ফেঁদে বসেছে| একদিন কথায় কথায় ওর নানা সাফল্যের গল্প শুনে বললাম "আর কি? এবার একটা গাড়ী কিনে ফেল| একটা ন্যানো বুক করে দাও|"
সন্দীপ অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো কিছুক্ষণ| তারপর বলল "গাড়ী তো হ্যায় স্যার! এক স্করপিও আউর এক আইনোভা খরিদ লিয়া| এক ছোটা ট্রাক ভি খরিদা| রেন্ট পে লাগা দিয়া সব|" আমি আর মুখ লুকানোর জায়গা পাই না| সেই কলেজ জীবনে শুনেছিলাম কথাটা "কোথায় খাপ  খুলেছ শিবাজী - এ যে পলাশীর প্রান্তর|"

এরপর একদিন দেখলাম সন্দীপকে নিজের ট্রাক নিয়ে - ড্রাইভার সাহেবের বেশে| ড্রাইভার সাহেব কথাটা যদিও আমাদের দেশে ব্যবহার করা হয় কিন্তু আমি কোনদিন এদেশে কোনো সাহেব ড্রাইভারকে দেখি নি| বোধহয় ব্রিটিশ আমলে যখন এদেশে প্রথম গাড়ী এসেছিল তখন শুধু সাহেবরাই ড্রাইভ করত|

আমার বেড়ানোর খুব সখ| এক সময় ট্রেনে বাসে অনেক ঘুরেছি| বেশ কয়েকবছর চাকরি করার পর গাড়িতে ঘোরার ক্ষমতা হলো| কিন্তু নিজের গাড়িতে তো আর বেশিদূর যাই না - বড়জোর তিন চারশো কিলোমিটার| আমাদের দেশের রাস্তাঘাট বিদেশের মত অত ভালো এখনো হয় নি| তাছাড়া আমাদের দেশের রেলগাড়ির কোনো জবাব নেই| আজকাল আবার প্লেনের ভাড়াও অনেকটা সাধ্যের মধ্যে এসে গেছে| সবচেয়ে বড় কথা, নিজের গাড়িতে গেলে নতুন মানুষের সঙ্গে গল্প হবে কি করে?

তবে আমাদের দেশের ড্রাইভারদের মত কেউ গল্প করতে পারে না| বিদেশের ড্রাইভার রা কেমন যেন মুখচোরা| যেন কেউ ওদের কথা বলতে বারণ করে দিয়েছে| অবশ্য সবাই নয়| যারা কোনো না কোনো গরিব দেশ থেকে এসেছে, তারা তাও কথাবার্তা বলে| ডারহাম শহরে আলাপ হয়েছিল জন এর সঙ্গে| আদি নিবাস কোথায় জানতে চাইলাম| বলল সোমালিয়া| সর্বনাশ করেছে - জলদস্যুর ট্যাক্সি তে চড়ে চলেছি নাকি? হয়ত আমার মনের কথা বুঝতে পেরেই সে বলল, সে নাকি মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার| সাংহাই থেকে পাশ করে আমেরিকা চলে এসেছে| তারপর ইঞ্জিনিয়ার সাহেব যে কি করে ড্রাইভার সাহেব হয়ে গেলেন আর জিজ্ঞেস  করি নি| হয়ত ট্যাক্সি চালিয়ে লাভ বেশি| কিম্বা চাইনিজ ডিগ্রির মূল্য কম| কথায় কথায় সে বলল তার কলেজে  কিছু বাংলাদেশী ছেলে ছিল - তখন সে নাকি একটু আধটু বাংলাও শিখেছিল| চমকপ্রদ তথ্য|

আর একবার সানফ্রান্সিসকো তে এক বার্মীজ ড্রাইভার পেয়েছিলাম| বার্মীজ শুনেই মনে পড়ে গেল  সুকুমার রায় এর খাই খাই  কবিতাটা "বার্মীদের ঙেপ্পিতে বাপরে কি গন্ধ|" পথের দাবী উপন্যাসে শরৎ বাবুও  নেপ্পির দুর্গন্ধের কথা লিখেছেন| জিজ্ঞেস করলাম "নেপ্পি কেমন খেতে?" সে অবাক হয়ে জানতে চাইল আমি কিভাবে এসমস্ত জানলাম| তারপর বলল "ও সব  গ্রামের দিকে খায় - আমি শহরের ছেলে, নেপ্পি খাই না|"

লানকাভি দ্বীপ এ গেছিলাম একবার| সন্ধে নাগাদ বৃষ্টি শুরু হলো| একটা টাক্সি ধরে তাড়াতাড়ি হোটেল -এ ফিরছিলাম| অন্ধকার জনশূন্য পথ| চারিদিকে ঘন গাছপালা| বৃষ্টি সমানে চলেছে| বেশ ভয় ভয় করছিল| হয়ত সেটা বুঝেই  ড্রাইভার একটা গান ধরল গুন গুন করে| একটু মন দিয়ে শুনে দেখি "জব চলি ঠান্ডি হাওয়া, জব উঠি কালিঘটা "| বললাম "এ গান তুমি শিখলে কোথায়?" বলল "ছোটবেলায় অনেক হিন্দি সিনেমা দেখতাম| আশা পারেখ আমার স্বপ্ন ছিল|" তারপর -ই যোগ করলো "আচ্ছা, আশা পারেখ কি এখনো বেঁচে আছেন?" আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম না| সেটা বলতে সে খুব হতাশ হলো| হয়ত ভাবলো, এ কেমন ভারতীয় যে এটুকুও জানে না যে আশা পারেখ  বেঁচে আছেন কিনা| হায় রে আশা!

দেশে অনেক সময়েই কিছু কিছু জায়গায় পৌছানোর পর সেখান থেকে একটা গাড়ির দরকার হয়| ধরা যাক নাগপুর এ নেমে পেন্চ রিজার্ভ ফরেস্টে যাব, কিম্বা কুমায়ুন অঞ্চলে কিছুদিন ঘুরে বেড়াব| এসমস্ত জায়গায় গাড়ী ভাড়া  করার পর থেকেই শুরু করে দিই   ড্রাইভারদের  সঙ্গে বকবক করা| অনেক কিছু জানা যায় নতুন জায়গা সম্বন্ধে| অনেক কিছু জানা যায় একটা নতুন মানুষ সম্বন্ধেও| বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্ত ড্রাইভাররা আমার মনে একটা ছাপ ফেলে যায়| পরে  কেউ সেই জায়গায় গেলে তাকে আমার চেনা ড্রাইভার এর ফোন নম্বরও দিয়েছি কতবার!

স্টানলি কিন্তু কোনো টুরিস্ট স্পট এর ড্রাইভার ছিল না| ও ছিল আমাদের অফিসের ড্রাইভার| গাঁট্টা গোট্টা  চেহারা, রোদে  পোড়া কালো কুচকুচে গায়ের রং| ঢেউ খেলানো তেল চপচপে কালো বাহারি চুল| পুরুষ্ট গোঁফ| সবসময় একটা সাদা হাফ শার্ট পরত -  বুক পকেটে একটা পেন| সঙ্গে কখনো প্যান্ট, কদাচিৎ সাদা লুঙ্গি|

সেবার একটা প্রজেক্ট সবে সুরু হয়েছে| ক্লায়েন্ট হলো MRF টায়ার কোম্পানি| টায়ার বানানোর রবারের মধ্যে ওরা যে কার্বনের গুঁড়ো মেশায় সেটা কতটা মিহিভাবে মিশে গেছে - সেটাই মাপতে হবে আমাদের সফ্টওয়ারের সাহায্যে| সেদিন ওদের ফ্যাক্টরি তে গিয়ে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করার ভার আমার ওপর| স্টানলি আমাকে নিয়ে চলল চেন্নাই -এর উত্তরে শহরের বাইরের সেই ফ্যাক্টরি তে||
বেশ গরম পড়েছিল সেবার| কিন্তু গাড়ী তে কাঁচ তুলে, এসি চালিয়ে দিব্বি মজাসে যাচ্ছিলাম| পোর্ট অঞ্চল টা পার করার পর -ই রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে এলো| স্টানলি সেদিন মেন রাস্তা না নিয়ে সমুদ্রের ধার দিয়ে একটা ভাঙ্গাচোরা রাস্তা নিল| নিঃসন্দেহে ট্রাফিক কম - কিন্তু প্রচন্ড ঝাঁকুনি| তবু সমুদ্র দেখতে দেখতে যেতে ভালই লাগছিল| মাস ছয়েক আগে প্রচন্ড ঝড়  হয়েছিল চেন্নাই এ| একটা জাহাজ সেই সময় বালিয়াড়িতে এসে আছড়ে পড়ে|| বিশাল জাহাজ| বেশ ভেঙ্গে চুরে গেছিল| সেটা দেখি তখনো  বীচের ওপর কাত হয়ে পড়ে রয়েছে| কিছু স্থানীয় জেলেদের ছেলেপুলেরা তার আশে পাশে  খেলে বেড়াচ্ছে| বালিমাখা খালি গা| কেউ বা অর্ধেক ভিজে| মন থেকে রবার, কার্বন এসমস্ত ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছিল| জানলা খুলে একটু সমুদ্রের গন্ধ নিতে যাব - হল্কা হাওয়া জানিয়ে দিল, ভুল করেছি|

স্টানলি র সঙ্গে গল্প জমানোর চেষ্টা করলাম| কোথায় থাকে ও? বাড়িতে কে কে আছে? নিজের দেশ কেরালার কোন অঞ্চলে? কতদিন চেন্নাই -এ আছে? এখানে কেমন লাগে? অনেক প্রশ্নই ছিল| কিন্তু ইংরাজি নাম হলে কি হবে, স্টানলির ইংরাজি জ্ঞান দেখলাম যৎসামান্য| হিন্দি তো জানেই না| আর আমার তামিল ভাষার জ্ঞান, স্টানলি-র ইংরাজি জ্ঞানের চেয়েও কম| মালায়ালমও  জানি না| তাই  বেশিক্ষণ টানতে পারলাম না| অবশ্য দরকারও ছিল না| দেখতে দেখতেই এসে গেল আমার গন্তব্য| বাঁ দিকের  ফ্যাক্টরিটা  দেখিয়ে  স্টানলি হেসে বলল "এম্ম অর  ইএফ" অর্থাত MRF| আর তারপর  একটা অদভুত  প্রশ্ন করে বসলো "ইয়োর লাঞ্জি স্যার?"
লাঞ্জি কি বস্তু রে বাবা? আমাকে কি গাড়ী থেকে এবার লাফিয়ে নামতে হবে - মানে lunge করে? কিন্তু জল কাদা তো নেই আশেপাশে! একটু ভেবে মনে হলো, ইংরাজি তে লিখলে দাড়াবে lungi - অর্থাৎ ও জানতে চাইছে স্যার সঙ্গে লুঙ্গি এনেছেন কিনা! কিন্তু আমি হঠাত MRF এর ফ্যাক্টরি তে লুঙ্গি নিয়ে আসতে যাব কেন? আর যদি এনেও থাকি, তাই  নিয়ে স্টানলির মাথাব্যথা কি কারণে? ও কি ভাবছে আমি এখন এখানকার কোনো গেস্ট হাউসে দিবানিদ্রা দিয়ে তারপর ফিরে যাব? আর আমি যে সদ্য সদ্য একটা লুঙ্গি কিনেছি, সেটাও তো স্টানলির জানার কথা নয়!  কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না| স্টানলি ততক্ষনে  গাড়ী পার্ক করে দিয়েছে| পাসের সিট এর নিচ থেকে একটা তিন চার তলা টিফিন কৌটো বার  করে ঝকঝকে এক হাসি হেসে বলল "মাই লাঞ্জি" - তারপর আবার একই প্রশ্ন "ইয়োর লাঞ্জি স্যার?"
এইবার বুঝলাম| ওকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে আমার লাঞ্জি নিয়ে চিন্তা করতে হবে না| কিছু একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে| ও নিজের লাঞ্জিটা সময় মত করে নিয়ে যেন তৈরী থাকে| হয়ত সেদিন স্টানলিও গাড়ির ডিকির ওপর চাদর বিছিয়ে লাঞ্জি করেছিল - কে জানে!

একটা কথা আজ ও চিন্তা করলে  ভালো লাগে - কোথাকার কে স্টানলি! সেও আমার জন্য ভেবেছিল| অফিসের ফোর্থ ক্লাস স্টাফদের মধ্যে আরো কেউ কেউ আমার জন্য  ভাবত| আমি অনেক দেরী করে অফিস থেকে বেরোতাম দেখে এক গার্ড নাকি আমার এক সহকর্মীকে প্রশ্ন করেছিল "ওনার কি কোনো পারিবারিক সমস্যা আছে? সময় মত বাড়ি যান না কেন?" সহকর্মীটি তাকে বুঝিয়েছিল "এখানে ওনার কোনো পরিবার টরিবার কিছুই নেই| একাই থাকেন তাই যা খুশি করেন|"

লালা কিন্তু নিজের পরিবার ছাড়া কারো জন্য বিশেষ চিন্তা ভাবনা  করত না| লালা অর্থাত দিনেশ চন্দ্র জয়সওয়াল| এলাহাবাদের ছেলে| বি কম পাস করে কি ভাবে জানি কাঠগোদাম -এ হাজির হয়েছিল| তারপর ড্রাইভিং শেখে| বহু বছর এখানে থেকে থেকে এক রকম পাহাড়িদের মতই হয়ে গেছে| নিজের একটা মারুতি ভ্যান ছিল| আমাকেও সেটাতেই নিয়ে যেতে চেয়েছিল| কিন্তু আমরা দলে ভারী ছিলাম - তাই সুমো র নীচে কিছুতেই রাজি হই নি| তখন কোত্থেকে একটা সুমো যোগাড়  করে এনেছিল| তারপর দশদিন এ পাহাড়  সে পাহাড় , এ জঙ্গল ও জঙ্গল, নানান মন্দির, নদী আর উপত্যকা ঘুরিয়েছিল আমাদের| কথায় কথায় নিজের ছেলেমেয়েদের গল্প করত| বাড়ি ফিরে কতক্ষণ তাদের সঙ্গে ক্যারাম খেলবে তার হিসেব দিত|  রাস্তাঘাট ছিল নখদর্পনে| একবার পাহাড়ের ধারে গাড়ী রেখে ওপর দিকে  কোথায় চলে গ্যালো| নিস্তব্ধ পাইনের জঙ্গল| নিচে অনেক দুরে সরযূ নদী বয়ে চলেছে| মন্দ লাগছিল না - কিন্তু লালা গেল কোথায় ভেবে চিন্তাও  হচ্ছিল| কিছুক্ষণ বাদে অনেকগুলো সাদা সাদা পাথর নিয়ে ফিরে এলো| বলল এগুলো গুঁড়ো করে ক্যারম এ দিলে নাকি স্ট্রাইকার আর ঘুঁটি 'দনাদ্দন' চলতে লাগে| ছেলেমেয়েরা পেয়ে খুব খুশী হবে|

কিন্তু সবাই তো লালা নয়! লুথরার ছিল সবার প্রতি পিতৃসুলভ আচরণ| ভোরবেলা রামনগর স্টেশন এ নেমে একটাই গাড়ী পেলাম আর সেটা লুথরার জিপ| বিরাট ভুঁড়ি  আর বিশাল গোঁফওয়ালা একটা মাঝবয়েসী লোক| করবেট পার্ক পেরিয়ে মারছুলা গ্রাম এ যাবার ছিল| সেখান থেকে ফেরার কোনো গাড়ী পাওয়া মুশকিল, তাই লুথরাকেই বললাম ফেরার দিন সকাল বেলা এসে নিয়ে যেতে| প্ল্যান করেছিলাম সারাদিন এদিক সেদিক ঘুরে, রাত্রে ট্রেন ধরব| খেয়াল ছিল না যে ফেরার দিনটা ছিল হোলি| রেষ্টুরেন্ট তো দুরের কথা, রাস্তার ধারে একটা ফলের দোকান পর্যন্ত খোলা ছিল না সেদিন| সঙ্গে যারা রয়েছে, তাদের বয়েস  তিন থেকে আটাত্তর - খিদেয় সব কাতর| লুথরা অনেক জায়গায় চেষ্টা করলো - কিন্তু খাবার জোটাতে পারল না| তারপর কাঁচুমাচু মুখ করে বলল - যদি কিছু মনে না করি তাহলে ওর বাড়িতে যেতে পারি|  যেন দোষটা ওরই | এরপর রামনগরের গলি ঘুঁজির মধ্যে দিয়ে পৌছানো গেল লুথরার বাড়ি| সেখানে  তার মা, বৌ থেকে আরম্ভ করে ছোট্ট মেয়ে সুদ্ধ সে কি আপ্যায়নের ঠেলা! দই বড়া, মিষ্টি, নিমকি ইত্যাদি বাড়িতে যা যা ছিল হোলি উপলক্ষে, সব এসে হাজির | পেট পুরে খেয়ে বললাম - "এবার তাহলে নিয়ে চল জিম করবেটের বাড়িটা দেখাতে| শুনেছি ওটা মিউজিয়াম বানিয়েছে? আজ খোলা থাকবে তো?"
-"চলুন দেখি| মনে তো হয় খোলাই থাকবে|"
কালাধুঙ্গী বেশ অনেকটা পথ| গিয়ে দেখি যা ভয় করেছিলাম তাই| মিউজিয়াম বন্ধ| আবার লুথরার মুখ কাঁচুমাচু - যেন দোষটা এবারেও ওর|
-"মন খারাপ করবেন না স্যার| চলুন আপনাদের গর্জিয়ার মন্দিরটা দেখাই|"
আবার উল্টোপথ এ করবেট পার্ক এর গেট পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া| ভারী চমৎকার জায়গা গর্জিয়া| কোশী নদীর মাঝে একটা টিলার ওপর ছোট্ট মন্দির| চারিদিকে প্রচুর গাছ| সন্ধে হয়ে আসছিল - তাই পাখিও প্রচুর| একটা অন্য রকম পাখি দেখলাম| ঈগল জাতীয়, কিন্তু মাথার ওপর যেন দুটো শিং| অনেকক্ষণ নদীর ধরে পাথরের ওপর বসেছিলাম| কিছু ছোট ছোট পাখির মাছ ধরার চেষ্টা দেখলাম| লুথরা যে কোথায় ডুব মারলো কে জানে| সূর্যাস্তের পর আবার এসে হাজির| সময়মত স্টেশন এ ছাড়বার দায়িত্ব নিয়েছে যে!

ভালো থাক লুথরা, লালা, স্টানলি র দল| এরা আছে বলেই না ঘুরতে এত ভালো লাগে|


No comments:

Post a Comment

রাজনীতির ধাক্কা

রাজনীতি নিয়ে    আমার জ্ঞান ছিল খুবই সামান্য।    এবং আজ যে সেটা কিছু মাত্র বেড়েছে সে দাবি আমি করি না।ছাত্র-ছাত্রীদের রাজনৈতিক চেতনা থাকা ভা...