ডাঃ টি কে দাশগুপ্ত| এই নামেই ওনাকে জানতাম| প্রায় চল্লিশ বছর পরে জেনেছিলাম ওনার পুরো নাম| উনিই ছিলেন আমাদের গৃহ চিকিৎসক| যদিও আমাদের গৃহে ওনাকে কখনো আসতে হয় নি| তবে নতুন পল্লীর দিকে গেলে, ওনার সুবিশাল গৃহটি বাইরে থেকে দেখেছি| সেটা দেখে আমার মনে হয়েছিল যে ওনার ডাক্তারি করাটা স্রেফ সময় কাটানো বা শখ মেটানোর জন্য| অর্থের প্রয়োজন তেমন আর নেই| ওনার অন্য একটা পরিচয়ও ছিল, যা তখন জানতাম না| সেকথা পরে লিখছি।
সেযুগে সবাইকে বছরে একবার বসন্তের টিকে নিতে হত| বাড়ি বাড়ি লোক এসে সেই যন্ত্রণা দিয়ে যেত|আমাদের ধারণা ছিল, টি কে ডাক্তারবাবু, ডাক্তার হবার আগে বোধয় টিকে দেবার কাজ করতেন - তাই ওই নাম|
চেম্বার টা ছিল বেতাইতলা বাজারের কাছে| ঝর্না সিনেমার উল্টোদিক বরাবর| আশেপাশে আরো দু একটা দোকান ছিল - কিসের দোকান - সেসব আজ আর মনে নেই| শুধু মনে আছে, কেশায়নী নামে একটা সেলুন ছিল আর একটা ডেকরেটরের অফিস ছিল কাছাকাছি| ঠিক উল্টোদিকে ছিল একটা ঘড়ি সারাই এর দোকান| মালিকের নাম দেববাবু| এসব সেই সত্তর দশকের কাহিনী|
চেম্বার বলতে মেন রাস্তার ওপরে একটা ১০ ফিট বাই ১০ ফিট ঘর| সামনেই ডানদিকে একটা মাঝারি কাঠের টেবিল| পেছন দিকটায় ডাক্তারবাবুর চেয়ার আর সামনে দুটো চেয়ার - একটা রুগীর আর অন্যটা রুগীর সঙ্গীর| ঘরের দু পাশে দুটো কাঠের বেঞ্চ পাতা - একদম সস্তার স্কুলে যেরকম বেঞ্চ হয় - তেমনি| ঘরটার সামনের বারান্দাতেও দুটো বেঞ্চ পাতা থাকত - রুগী বেশি হলে তারা সেখানে বসে বসে রাস্তার ধুলো শুঁকত| ডাক্তারবাবুর বসার জায়গার ঠিক পেছনেই ছিল দুটো কাঠের আলমারি - তাতে নানান ওষুধ ঠাসা| এই আলমারিগুলোর পেছনে ছিল ওনার কাজের জায়গা - সেখানে উনি খলনুড়ি দিয়ে কিসব গুঁড়ো করে তার মধ্যে নানান রঙিন তরল পদার্থ ঢেলে অখাদ্য সব মিক্সচার বানাতেন| সেসময় ঠুং ঠাং করে নানারকম অওয়াজ পাওয়া যেত| তারপর একটা কাঁচের শিশিতে সেই মিক্সচার ঢেলে, বাইরে একটা কাগজের খাঁজকাটা ফালি লাগিয়ে নিয়ে আসতেন| আমরা জানতাম ওসব হলো দাগ দেওয়া ওষুধ| কখন ক'দাগ খেতে হবে সব উনি বলে দিতেন| আমরাও বাড়িতে কাগজ কেটে ঐরকম 'দাগ' বানাতে শিখেছিলাম| আর এই ল্যাবরেটরির পাশেই একফালি জায়গা পার্টিশন করা ছিল - সেখানে রুগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করতেন|
ওনার ফী ছিল ২ টাকা| সেযুগের হিসেবেও হয়ত খুব -ই সস্তা| অবশ্য ওষুধের দাম আলাদা দিতে হত|
ভালই ভিড় হত| গরিব মানুষই বেশি| তাদের থেকে আরো কম ফী নিতেন| তখন বুঝতাম না সেই গরিব মানুষগুলোর থেকে আমরাও খুব একটা বেশি ধনী ছিলাম না| সেকালে ছোটরা পয়সা কড়ির ব্যাপারে তেমন খোঁজ খবর রাখত না সবাই| তবে ডাক্তারবাবু ধনী গরিব নির্বিশেষে, সকলকেই খুব যত্ন নিয়ে চিকিৎসা করতেন, সেটা খানিকটা বুঝতাম|
সকাল দশটা নাগাদ উনি সাইকেল চড়ে আসতেন| রাত্রের দিকেও চেম্বার খুলতেন একবার| একদম পাটভাঙ্গা একটা ফুলহাতা সাদা শার্ট আর স্লেট রঙের প্যান্ট ই ছিল বেশির ভাগ দিনের পোশাক| শার্ট এর হাতাটা কনুই অবধি গোটানো থাকত আর বুকপকেটে থাকত একটা ভালো ফাউন্টেন পেন| চশমা পরতেন কিনা মনে পড়ছে না| গলার কাছে কি একটা কন্ঠী দেখেছিলাম? সেটাও ঠিক মনে নেই| পায়ে থাকত বাদামী রঙের স্যান্ডেল| গ্রীষ্মের দিনে মাথায় একটা ফেল্ট হ্যাট| মাথার পেছন দিকে সামান্য পাকা চুল ছিল - বাকিটা টাক| হালকা সাদা গোঁফ| রোগা পাতলা চেহারা| হাইট - মেরে কেটে সাড়ে পাঁচ ফিট|
উনি আসার আগেই ওনার হেল্পার এসে যেত| সে ডাক্তারখানা খুলে, ধুলো টুলো ঝেড়ে, ক্যালেন্ডারের দিনক্ষণ সব ঠিক করে রাখত| উনি এলেই সে গিয়ে ওনার সাইকেলটা বারান্দায় তুলে দিয়ে চাবি দিয়ে দিত|
ডাক্তারবাবুর সঙ্গের ব্যাগ এ থাকত ওনার অস্ত্রশস্ত্র, অর্থাৎ - প্রেসার মাপার যন্ত্র, স্টেথোস্কপ আর থার্মোমিটার| শেষের দুটো অস্ত্র উনি সব রুগীর ওপরেই প্রয়োগ করতেন| তারপর চোখের নীচটা টেনে দেখতেন| ভেতরের ঘরে নিয়ে গিয়ে পেট পিঠ পরীক্ষা করতেন| জিভ বার করতে বলতেন| জিভ ভেঙিয়ে ওনাকে কিছুতেই সন্তুষ্ট করা যেত না| কালী ঠাকুর এলেও বোধহয় উনি বলতেন "না না - আরো লম্বা করে বার করে 'অ্যাঅ্যা' বল|"
এবার উনি বসতেন চিন্তা করতে| বোধহয় মনে মনে ভাবতেন কতটা বিস্বাদ ওষুধ এ ব্যাটা সহ্য করতে পারবে! সেই সময় উনি টেবিলের ওপর কনুই দুটো রেখে হাতের তালুদুটো দিয়ে কপালের দুপাশটা চেপে ধরতেন| চোখ বন্ধ থাকত| ঠোঁটের কোনে একটা মুচকি হাসি| ডান হাতের তর্জনী আর মধ্যমা দিয়ে নিজের টাকের ওপর একটু তবলা বাজাতেন| তারপর খসখস করে বহু ওষুধ লিখে ফেলতেন| এর মধ্যে মিক্সচার গুলো নিজেই বানিয়ে দিতেন সেকথা আগেই বলেছি|
কখনো তেমন রেগে যেতে দেখি নি। শুধু একদিন খুব রেগে গিয়েছিলেন ওই ঘড়ির দোকানের দেববাবুর ওপর| তখন দুপুর প্রায় ১২ টা হবে| আমার সর্দি কমছিল না বলে দেখাতে গিয়েছিলাম| অন্য রুগী ছিল, আমি বসে বসে রাস্তার বাস গুনছিলাম কিম্বা ঝর্না সিনেমার পোস্টার দেখছিলাম| হঠাৎ দেববাবু রাস্তা পেরিয়ে এসে বেঞ্চে বসে হাঁফাতে লাগলেন| "কি হলো মশাই" বলে ডাক্তারবাবু এগিয়ে গেলেন| দেববাবুর বক্তব্য বদহজম হয়ে গ্যাস হয়ে গেছে - শরীরটা ঠিক ভালো লাগছে না| প্রেসার পরীক্ষা হলো| তারপর নাড়ি দেখা, স্টেথোস্কোপ দিয়ে বুক পিঠ দেখা, চোখ টেনে টেনে দেখা এসমস্ত করে ডাক্তারবাবু বললেন "ভালো বুঝছি না| ছেলেকে বলুন দোকান বন্ধ করে আমার কাছে আসতে আর আপনি সাইকেল রেখে, একটা রিক্সা করে এক্ষুনি বাড়ি চলে যান|" দেবাবাবু গাঁই গুঁই করতে লাগলেন "আরে না না - একটু গ্যাস হয়ে গেছে..."| কথাটা শেষ করতে পারলেন না| ডাক্তারবাবুকে জীবনে প্রথমবার (এবং শেষবার) ক্ষেপে যেতে দেখলাম - "রাখুন মশাই আপনার গ্যাস| যা বলছি তাই করুন|" ওই একদিনই ওনাকে রাগে কাঁপতে দেখেছিলাম| দুদিন পর জানলাম, দেববাবুর হার্ট এটাক হয়েছিল| সম্ভবত এর কিছুদিন পরেই দেববাবু মারা যান|
অনেকটা বড় হবার পর ডাক্তারবাবুর দ্বিতীয় পরিচয়টা জেনেছিলাম| উনি ছিলেন, স্বনামধন্য চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর বাবা| এই কিছুদিন আগে, বুদ্ধদেববাবুর একটা ইন্টারভিউ পড়তে পড়তে টি কে ডাক্তারবাবুর সম্বন্ধে আরো কিছু জানতে পারলাম| প্রথম দিকে উনি ছিলেন রেলের ডাক্তার| খড়গপুরে অনেকদিন ছিলেন| তারপর নানা জানা অজানা জায়গায় পোস্টিং হয়| এমন জায়গাতেও ছিলেন, যেখানে রাতে বাঘ বেরোত| হাসপাতাল বলতে কিছুই ছিল না আর উনিই ছিলেন সর্বেসর্বা| স্থানীয় লোকজন ওনাকে ভালবাসত, শ্রদ্ধা করত|
মনে হয়, গ্রামের মানুষ তাদের শ্রদ্ধা ভালবাসা ঠিক জায়গাতেই দিয়েছিল| ভারী নিরহঙ্কার আর পরোপকারী মানুষ ছিলেন টি কে ডাক্তারবাবু| আমার মনের আকাশের একটি তারা| হ্যাঁ, ওনার পুরো নাম ছিল তারা কান্ত দাশগুপ্ত - যেটা আমি বুদ্ধদেববাবুর ইন্টারভিউ পড়ে কয়েকদিন আগেই জানলাম|
সেযুগে সবাইকে বছরে একবার বসন্তের টিকে নিতে হত| বাড়ি বাড়ি লোক এসে সেই যন্ত্রণা দিয়ে যেত|আমাদের ধারণা ছিল, টি কে ডাক্তারবাবু, ডাক্তার হবার আগে বোধয় টিকে দেবার কাজ করতেন - তাই ওই নাম|
চেম্বার টা ছিল বেতাইতলা বাজারের কাছে| ঝর্না সিনেমার উল্টোদিক বরাবর| আশেপাশে আরো দু একটা দোকান ছিল - কিসের দোকান - সেসব আজ আর মনে নেই| শুধু মনে আছে, কেশায়নী নামে একটা সেলুন ছিল আর একটা ডেকরেটরের অফিস ছিল কাছাকাছি| ঠিক উল্টোদিকে ছিল একটা ঘড়ি সারাই এর দোকান| মালিকের নাম দেববাবু| এসব সেই সত্তর দশকের কাহিনী|
চেম্বার বলতে মেন রাস্তার ওপরে একটা ১০ ফিট বাই ১০ ফিট ঘর| সামনেই ডানদিকে একটা মাঝারি কাঠের টেবিল| পেছন দিকটায় ডাক্তারবাবুর চেয়ার আর সামনে দুটো চেয়ার - একটা রুগীর আর অন্যটা রুগীর সঙ্গীর| ঘরের দু পাশে দুটো কাঠের বেঞ্চ পাতা - একদম সস্তার স্কুলে যেরকম বেঞ্চ হয় - তেমনি| ঘরটার সামনের বারান্দাতেও দুটো বেঞ্চ পাতা থাকত - রুগী বেশি হলে তারা সেখানে বসে বসে রাস্তার ধুলো শুঁকত| ডাক্তারবাবুর বসার জায়গার ঠিক পেছনেই ছিল দুটো কাঠের আলমারি - তাতে নানান ওষুধ ঠাসা| এই আলমারিগুলোর পেছনে ছিল ওনার কাজের জায়গা - সেখানে উনি খলনুড়ি দিয়ে কিসব গুঁড়ো করে তার মধ্যে নানান রঙিন তরল পদার্থ ঢেলে অখাদ্য সব মিক্সচার বানাতেন| সেসময় ঠুং ঠাং করে নানারকম অওয়াজ পাওয়া যেত| তারপর একটা কাঁচের শিশিতে সেই মিক্সচার ঢেলে, বাইরে একটা কাগজের খাঁজকাটা ফালি লাগিয়ে নিয়ে আসতেন| আমরা জানতাম ওসব হলো দাগ দেওয়া ওষুধ| কখন ক'দাগ খেতে হবে সব উনি বলে দিতেন| আমরাও বাড়িতে কাগজ কেটে ঐরকম 'দাগ' বানাতে শিখেছিলাম| আর এই ল্যাবরেটরির পাশেই একফালি জায়গা পার্টিশন করা ছিল - সেখানে রুগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করতেন|
ওনার ফী ছিল ২ টাকা| সেযুগের হিসেবেও হয়ত খুব -ই সস্তা| অবশ্য ওষুধের দাম আলাদা দিতে হত|
ভালই ভিড় হত| গরিব মানুষই বেশি| তাদের থেকে আরো কম ফী নিতেন| তখন বুঝতাম না সেই গরিব মানুষগুলোর থেকে আমরাও খুব একটা বেশি ধনী ছিলাম না| সেকালে ছোটরা পয়সা কড়ির ব্যাপারে তেমন খোঁজ খবর রাখত না সবাই| তবে ডাক্তারবাবু ধনী গরিব নির্বিশেষে, সকলকেই খুব যত্ন নিয়ে চিকিৎসা করতেন, সেটা খানিকটা বুঝতাম|
সকাল দশটা নাগাদ উনি সাইকেল চড়ে আসতেন| রাত্রের দিকেও চেম্বার খুলতেন একবার| একদম পাটভাঙ্গা একটা ফুলহাতা সাদা শার্ট আর স্লেট রঙের প্যান্ট ই ছিল বেশির ভাগ দিনের পোশাক| শার্ট এর হাতাটা কনুই অবধি গোটানো থাকত আর বুকপকেটে থাকত একটা ভালো ফাউন্টেন পেন| চশমা পরতেন কিনা মনে পড়ছে না| গলার কাছে কি একটা কন্ঠী দেখেছিলাম? সেটাও ঠিক মনে নেই| পায়ে থাকত বাদামী রঙের স্যান্ডেল| গ্রীষ্মের দিনে মাথায় একটা ফেল্ট হ্যাট| মাথার পেছন দিকে সামান্য পাকা চুল ছিল - বাকিটা টাক| হালকা সাদা গোঁফ| রোগা পাতলা চেহারা| হাইট - মেরে কেটে সাড়ে পাঁচ ফিট|
উনি আসার আগেই ওনার হেল্পার এসে যেত| সে ডাক্তারখানা খুলে, ধুলো টুলো ঝেড়ে, ক্যালেন্ডারের দিনক্ষণ সব ঠিক করে রাখত| উনি এলেই সে গিয়ে ওনার সাইকেলটা বারান্দায় তুলে দিয়ে চাবি দিয়ে দিত|
ডাক্তারবাবুর সঙ্গের ব্যাগ এ থাকত ওনার অস্ত্রশস্ত্র, অর্থাৎ - প্রেসার মাপার যন্ত্র, স্টেথোস্কপ আর থার্মোমিটার| শেষের দুটো অস্ত্র উনি সব রুগীর ওপরেই প্রয়োগ করতেন| তারপর চোখের নীচটা টেনে দেখতেন| ভেতরের ঘরে নিয়ে গিয়ে পেট পিঠ পরীক্ষা করতেন| জিভ বার করতে বলতেন| জিভ ভেঙিয়ে ওনাকে কিছুতেই সন্তুষ্ট করা যেত না| কালী ঠাকুর এলেও বোধহয় উনি বলতেন "না না - আরো লম্বা করে বার করে 'অ্যাঅ্যা' বল|"
এবার উনি বসতেন চিন্তা করতে| বোধহয় মনে মনে ভাবতেন কতটা বিস্বাদ ওষুধ এ ব্যাটা সহ্য করতে পারবে! সেই সময় উনি টেবিলের ওপর কনুই দুটো রেখে হাতের তালুদুটো দিয়ে কপালের দুপাশটা চেপে ধরতেন| চোখ বন্ধ থাকত| ঠোঁটের কোনে একটা মুচকি হাসি| ডান হাতের তর্জনী আর মধ্যমা দিয়ে নিজের টাকের ওপর একটু তবলা বাজাতেন| তারপর খসখস করে বহু ওষুধ লিখে ফেলতেন| এর মধ্যে মিক্সচার গুলো নিজেই বানিয়ে দিতেন সেকথা আগেই বলেছি|
কখনো তেমন রেগে যেতে দেখি নি। শুধু একদিন খুব রেগে গিয়েছিলেন ওই ঘড়ির দোকানের দেববাবুর ওপর| তখন দুপুর প্রায় ১২ টা হবে| আমার সর্দি কমছিল না বলে দেখাতে গিয়েছিলাম| অন্য রুগী ছিল, আমি বসে বসে রাস্তার বাস গুনছিলাম কিম্বা ঝর্না সিনেমার পোস্টার দেখছিলাম| হঠাৎ দেববাবু রাস্তা পেরিয়ে এসে বেঞ্চে বসে হাঁফাতে লাগলেন| "কি হলো মশাই" বলে ডাক্তারবাবু এগিয়ে গেলেন| দেববাবুর বক্তব্য বদহজম হয়ে গ্যাস হয়ে গেছে - শরীরটা ঠিক ভালো লাগছে না| প্রেসার পরীক্ষা হলো| তারপর নাড়ি দেখা, স্টেথোস্কোপ দিয়ে বুক পিঠ দেখা, চোখ টেনে টেনে দেখা এসমস্ত করে ডাক্তারবাবু বললেন "ভালো বুঝছি না| ছেলেকে বলুন দোকান বন্ধ করে আমার কাছে আসতে আর আপনি সাইকেল রেখে, একটা রিক্সা করে এক্ষুনি বাড়ি চলে যান|" দেবাবাবু গাঁই গুঁই করতে লাগলেন "আরে না না - একটু গ্যাস হয়ে গেছে..."| কথাটা শেষ করতে পারলেন না| ডাক্তারবাবুকে জীবনে প্রথমবার (এবং শেষবার) ক্ষেপে যেতে দেখলাম - "রাখুন মশাই আপনার গ্যাস| যা বলছি তাই করুন|" ওই একদিনই ওনাকে রাগে কাঁপতে দেখেছিলাম| দুদিন পর জানলাম, দেববাবুর হার্ট এটাক হয়েছিল| সম্ভবত এর কিছুদিন পরেই দেববাবু মারা যান|
অনেকটা বড় হবার পর ডাক্তারবাবুর দ্বিতীয় পরিচয়টা জেনেছিলাম| উনি ছিলেন, স্বনামধন্য চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর বাবা| এই কিছুদিন আগে, বুদ্ধদেববাবুর একটা ইন্টারভিউ পড়তে পড়তে টি কে ডাক্তারবাবুর সম্বন্ধে আরো কিছু জানতে পারলাম| প্রথম দিকে উনি ছিলেন রেলের ডাক্তার| খড়গপুরে অনেকদিন ছিলেন| তারপর নানা জানা অজানা জায়গায় পোস্টিং হয়| এমন জায়গাতেও ছিলেন, যেখানে রাতে বাঘ বেরোত| হাসপাতাল বলতে কিছুই ছিল না আর উনিই ছিলেন সর্বেসর্বা| স্থানীয় লোকজন ওনাকে ভালবাসত, শ্রদ্ধা করত|
মনে হয়, গ্রামের মানুষ তাদের শ্রদ্ধা ভালবাসা ঠিক জায়গাতেই দিয়েছিল| ভারী নিরহঙ্কার আর পরোপকারী মানুষ ছিলেন টি কে ডাক্তারবাবু| আমার মনের আকাশের একটি তারা| হ্যাঁ, ওনার পুরো নাম ছিল তারা কান্ত দাশগুপ্ত - যেটা আমি বুদ্ধদেববাবুর ইন্টারভিউ পড়ে কয়েকদিন আগেই জানলাম|
Play Casino - Online slots, blackjack, roulette & more at JTG Hub
ReplyDeleteWhat games 계룡 출장마사지 can I play at JTG 인천광역 출장마사지 Hub? · 1. Slots 영주 출장마사지 · 2. Table Games · 3. 보령 출장안마 Live Casino · 4. Live Poker · 5. Virtual Sports · 광주광역 출장샵 6. Virtual Sports.