মানুষ নাকি মৃত্যুর ঠিক আগে একটা ফ্ল্যাশব্যাক দেখে| কোথাও একথাটা পড়েছিলেন ভোলাবাবু| মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে শুরু হয় সিনেমাটা| একদম ছোটবেলা থেকে শেষ বয়েস পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনাই ওপর ওপর দেখানো হয় সেই সিনেমাটাতে| কিছু কিছু প্রায় বিস্মৃত ঘটনাও দেখতে পাওয়া যায় একদম পরিষ্কার| তবে খুব তাড়াতাড়ি এসমস্ত ঘটে যায়| পাঁচ মিনিটের মধ্যে হয়ত পঞ্চাশ বছরের ফ্ল্যাশব্যাক দেখানো হয়| যদিও যে দেখে, তার মনেই হয় না যে এটা ফাস্ট ফরওয়ার্ড করে দেখানো হচ্ছে| সে সাধারণ বেগেই সমস্তকিছু দেখে| বোধহয় মনটা তখন খুব দ্রুতগামী হয়ে যায় তাই সেই ক্লাস নাইনের রিলেটিভ ভেলোসিটির অঙ্কগুলোর মতো সিনেমার বেগটা অপেক্ষিক ভাবে তেমন বেশি দেখায় না|
বিজ্ঞান এর কথা এখন থাক, কারণ ভোলাবাবু মরতে বসেছেন| দোষটা খানিকটা ওনার নিজেরই| বাড়ির লোকজন সব সিনেমা দেখতে গেছে| ওনার শরীরটা ভালো লাগছিল না বলে যান নি| বিছানায় শুয়ে শুয়ে ডিসকভারি চ্যানেল দেখছিলেন| হাঁপানী রোগের ওপর কিছু একটা অনুষ্ঠান| ইনহেলার বেশি ব্যবহার করলে কি ঘটতে পারে - আফ্রিকার চিতাবাঘ গুলো দৌড়তে দৌড়তে হাঁপিয়ে গেলেও ওদের কেন ইনহেলার এর প্রয়োজন হয় না - মাছেদের হাঁপানীকে কি বলে - এই সমস্ত| আসলে নিজে হাঁপানী রুগী বলে, দেখতে বেশ ভালই লাগছিল| হঠাৎ করেই কেমন যেন হাঁফ ধরে উঠলো| টিভিটা বন্ধ করে দিলেন| অভ্যাসবশত পাশের টেবিলটা হাতড়ালেন| নাঃ, ইনহেলারটা ওখানে নেই| হাঁপানীটা খুব তাড়াতাড়ি বাড়ছে| বালিশের নিচেও নেই| তবে কি মাটিতে পড়ে গেল? কিন্তু নিচেও তো দেখা যাচ্ছে না| ভোলাবাবুর দম বন্ধ হয়ে আসছে| কাউকে ফোন করেও লাভ নেই - অতটা সময় যে পাওয়া যাবে না সেটা বেশ বুঝতে পারছেন| পাশের বাড়ির ঘোষেদের ফোন নম্বরটা রাখার কথা বলেছিলো সুমিত সেদিন| কেন যে গড়িমসি করে সেটা করতে ভুলে গেলেন - ভেবে নিজের ওপরেই রাগ হচ্ছিল| ছোটবেলা থেকেই ভুলে যাওয়ার এই ব্যামো ভোলাবাবুর| সেই জন্যই তো অনিকেত রায়চৌধুরীর ঠাকুমা ওনাকে ভোলা বলে ডাকা শুরু করেছিলেন| পরে অবশ্য সবাই ওই নামেই ডাকত| মায় অফিস কলিগরা পর্যন্ত বি আর চৌধুরী বলেই ওনাকে জানত| ফাজিল একটা ছোকরা ওনাকে ভাল্লুকদা বলত - বি আর থেকে বিয়ার আর তার থেকে ভাল্লুক|
আবার মনে করার চেষ্টা করলেন ইনহেলারটা কোথায়! এই তো এক ঘন্টা আগেই পার্ক থেকে ঘুরে এলেন| এসেই সোজা নিজের ঘরে| আর কোত্থাও যান নি| টেবিলেই তো রাখার কথা| আরো একবার টেবিলটা দেখলেন| টেবিলের ড্রয়ারটা খুলেও হাঁটকালেন দুবার| ক্রমশ অসহ্য হয়ে উঠছে শ্বাসকষ্টটা|
ঠিক এই সময় শুরু হয়ে গেল ফ্ল্যাশব্যাক| ওই তো ছোট্ট ভোলা হাঁটবার চেষ্টা করছে| ওই তো পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে গ্যালো| ইস, তখন যদি দেখতে পেতেন যে পেছনেই একটা তোষক পাতা ছিলো! এইবার ক্লাস ফোরের অঙ্ক পরীক্ষা| পেন্সিলএর শিষটা ভেঙ্গে গেল| এহে, কত সহজ একটা গসাগু ভুল করলেন ভোলাবাবু| ফ্লাশব্যাক এগিয়ে চলেছে| ভোলাবাবু মনে মনে হিসেব করলেন, শেষের দিকে উনি দেখতে পাবেন ইনহেলারটা কোথায় আছে| সঙ্গে সঙ্গে সেটা মুখে নিয়ে আঙুলের চাপ দিতে হবে| দেরী করলেই অক্কা! আর শ্বাস নিতে পারছেন না উনি| একেই কি বলে রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা?
এখন ভোলাবাবুর কলেজের থার্ড ইয়ারের পরীক্ষাটা চলছে| পাশের ছেলের দেখে টোকবার সময় স্যার এসে চেপে ধরেছেন| ধুস, দরজার দিকটা একবার দেখে নেওয়া উচিত ছিল| ভোলাবাবু অফিস এ লেট মার্ক হলেন - আগের বাসটা না ছাড়লেই হত! এখন আর এসব দেখে কি লাভ! মন দিয়ে কিছুই আর দেখছেন না উনি| এই সময় সুস্থ থাকলে হয়ত একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ত| কিন্ত যা অবস্থা, হ্রস্ব বা দীর্ঘ কোনো শ্বাসই আর বেরোচ্ছে না| ক্রমশ সিনেমাটা শেষ হয়ে আসছে| ভোলাবাবুও শেষ হয়ে আসছেন| ভোলাবাবু পার্কে যাবার সময় টেবিল থেকে ইনহেলারটা তুলে পকেটে ভরলেন| এবার ভোলাবাবু পার্ক থেকে বাড়ি ফিরলেন| সোজা বিছানায়| জামাকাপড় বদলান নি - সেই প্যান্ট আর ফতুয়া| অর্থাৎ পকেটেই আছে ওটা| ফতুয়ার ডান পকেটে দেখলেন, নেই| ভোলাবাবুর সিনেমা প্রায় শেষ| মৃত্যুর আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড বাকি| অতি কষ্টে প্যান্টের ডান পকেটে হাত ঢোকালেন| সেখানে শুধুই রুমালটা| খুব রাগ হলো নিজের ওপর| এই তো, একটু আগেই দেখাচ্ছিল উনি ওটা পকেটে ভরছেন| তখন যদি একটু মন দিয়ে দেখতেন, তাহলেই ঝামেলা মিটে যেত| সিনেমা শেষ|
রাত্রে বাড়ির লোকজন দরজা ভেঙ্গে ঢুকে দেখল ভোলাবাবু বাঁ হাতটা প্যান্টের বাঁদিকের পকেটে ঢুকিয়ে দেহত্যাগ করেছেন| ফতুয়ার বাঁ পকেট থেকে ইনহেলারটা পাওয়া গিয়েছিল|
বিজ্ঞান এর কথা এখন থাক, কারণ ভোলাবাবু মরতে বসেছেন| দোষটা খানিকটা ওনার নিজেরই| বাড়ির লোকজন সব সিনেমা দেখতে গেছে| ওনার শরীরটা ভালো লাগছিল না বলে যান নি| বিছানায় শুয়ে শুয়ে ডিসকভারি চ্যানেল দেখছিলেন| হাঁপানী রোগের ওপর কিছু একটা অনুষ্ঠান| ইনহেলার বেশি ব্যবহার করলে কি ঘটতে পারে - আফ্রিকার চিতাবাঘ গুলো দৌড়তে দৌড়তে হাঁপিয়ে গেলেও ওদের কেন ইনহেলার এর প্রয়োজন হয় না - মাছেদের হাঁপানীকে কি বলে - এই সমস্ত| আসলে নিজে হাঁপানী রুগী বলে, দেখতে বেশ ভালই লাগছিল| হঠাৎ করেই কেমন যেন হাঁফ ধরে উঠলো| টিভিটা বন্ধ করে দিলেন| অভ্যাসবশত পাশের টেবিলটা হাতড়ালেন| নাঃ, ইনহেলারটা ওখানে নেই| হাঁপানীটা খুব তাড়াতাড়ি বাড়ছে| বালিশের নিচেও নেই| তবে কি মাটিতে পড়ে গেল? কিন্তু নিচেও তো দেখা যাচ্ছে না| ভোলাবাবুর দম বন্ধ হয়ে আসছে| কাউকে ফোন করেও লাভ নেই - অতটা সময় যে পাওয়া যাবে না সেটা বেশ বুঝতে পারছেন| পাশের বাড়ির ঘোষেদের ফোন নম্বরটা রাখার কথা বলেছিলো সুমিত সেদিন| কেন যে গড়িমসি করে সেটা করতে ভুলে গেলেন - ভেবে নিজের ওপরেই রাগ হচ্ছিল| ছোটবেলা থেকেই ভুলে যাওয়ার এই ব্যামো ভোলাবাবুর| সেই জন্যই তো অনিকেত রায়চৌধুরীর ঠাকুমা ওনাকে ভোলা বলে ডাকা শুরু করেছিলেন| পরে অবশ্য সবাই ওই নামেই ডাকত| মায় অফিস কলিগরা পর্যন্ত বি আর চৌধুরী বলেই ওনাকে জানত| ফাজিল একটা ছোকরা ওনাকে ভাল্লুকদা বলত - বি আর থেকে বিয়ার আর তার থেকে ভাল্লুক|
আবার মনে করার চেষ্টা করলেন ইনহেলারটা কোথায়! এই তো এক ঘন্টা আগেই পার্ক থেকে ঘুরে এলেন| এসেই সোজা নিজের ঘরে| আর কোত্থাও যান নি| টেবিলেই তো রাখার কথা| আরো একবার টেবিলটা দেখলেন| টেবিলের ড্রয়ারটা খুলেও হাঁটকালেন দুবার| ক্রমশ অসহ্য হয়ে উঠছে শ্বাসকষ্টটা|
ঠিক এই সময় শুরু হয়ে গেল ফ্ল্যাশব্যাক| ওই তো ছোট্ট ভোলা হাঁটবার চেষ্টা করছে| ওই তো পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে গ্যালো| ইস, তখন যদি দেখতে পেতেন যে পেছনেই একটা তোষক পাতা ছিলো! এইবার ক্লাস ফোরের অঙ্ক পরীক্ষা| পেন্সিলএর শিষটা ভেঙ্গে গেল| এহে, কত সহজ একটা গসাগু ভুল করলেন ভোলাবাবু| ফ্লাশব্যাক এগিয়ে চলেছে| ভোলাবাবু মনে মনে হিসেব করলেন, শেষের দিকে উনি দেখতে পাবেন ইনহেলারটা কোথায় আছে| সঙ্গে সঙ্গে সেটা মুখে নিয়ে আঙুলের চাপ দিতে হবে| দেরী করলেই অক্কা! আর শ্বাস নিতে পারছেন না উনি| একেই কি বলে রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা?
এখন ভোলাবাবুর কলেজের থার্ড ইয়ারের পরীক্ষাটা চলছে| পাশের ছেলের দেখে টোকবার সময় স্যার এসে চেপে ধরেছেন| ধুস, দরজার দিকটা একবার দেখে নেওয়া উচিত ছিল| ভোলাবাবু অফিস এ লেট মার্ক হলেন - আগের বাসটা না ছাড়লেই হত! এখন আর এসব দেখে কি লাভ! মন দিয়ে কিছুই আর দেখছেন না উনি| এই সময় সুস্থ থাকলে হয়ত একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ত| কিন্ত যা অবস্থা, হ্রস্ব বা দীর্ঘ কোনো শ্বাসই আর বেরোচ্ছে না| ক্রমশ সিনেমাটা শেষ হয়ে আসছে| ভোলাবাবুও শেষ হয়ে আসছেন| ভোলাবাবু পার্কে যাবার সময় টেবিল থেকে ইনহেলারটা তুলে পকেটে ভরলেন| এবার ভোলাবাবু পার্ক থেকে বাড়ি ফিরলেন| সোজা বিছানায়| জামাকাপড় বদলান নি - সেই প্যান্ট আর ফতুয়া| অর্থাৎ পকেটেই আছে ওটা| ফতুয়ার ডান পকেটে দেখলেন, নেই| ভোলাবাবুর সিনেমা প্রায় শেষ| মৃত্যুর আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড বাকি| অতি কষ্টে প্যান্টের ডান পকেটে হাত ঢোকালেন| সেখানে শুধুই রুমালটা| খুব রাগ হলো নিজের ওপর| এই তো, একটু আগেই দেখাচ্ছিল উনি ওটা পকেটে ভরছেন| তখন যদি একটু মন দিয়ে দেখতেন, তাহলেই ঝামেলা মিটে যেত| সিনেমা শেষ|
রাত্রে বাড়ির লোকজন দরজা ভেঙ্গে ঢুকে দেখল ভোলাবাবু বাঁ হাতটা প্যান্টের বাঁদিকের পকেটে ঢুকিয়ে দেহত্যাগ করেছেন| ফতুয়ার বাঁ পকেট থেকে ইনহেলারটা পাওয়া গিয়েছিল|
No comments:
Post a Comment